👉👉👉👉👉
আমার এটা লেখা উচিত ছিল না। কিন্তু আর সব ভিতরে চেপে রাখার শক্তি নাই। এর আগে একবার বুঝে নিস—আমি ওই দলের কেউ না যারা এসব কাজ করে। কখনো ছিলাম না। এখানে আসার পর থেকে শুধু কাজ করছি। চুপ থেকেছি, সয়েছি, একলা সামলাইছি। কিন্তু যাদের সামনে খুলে বলছি, তিনজন ভিন্ন মানুষ একই কথা কইছে—"রাজ, লিখে ফালাইস। তোর মতো মানুষ মনে করে একা একা এই অবস্থার মধ্যে দিয়া যাইতাছি। আসলে তা না।" আচ্ছা। একবারই। না সাজানো, না গোছানো। যা যা তাই। কে আমি। নাম রাজ, বয়স ত্রিশ। বাংলাদেশের ঢাকায় বড় হইছি। এখানে ইউকে তে আইছি পাঁচ বছর আগে, ওয়ার্ক ভিসায়। ঢাকায় জীবন ছিল সাদামাটা আর কঠিন। আমি, মা আর বোন—তিনজন এক কামরায় থাকতাম। ইউকে যাওয়ার সুযোগ পাইয়া সব আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা কর্জ করছি, যা যা বেচা যায় বেচিয়া দিছি, আর একমুখী টিকিট কিনছি। এখানে শুরু করছি ম্যানচেস্টারের উপকণ্ঠে এক ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁয় ডিশওয়াশার হিসেবে। এক বছর পর হেল্পার কুক বানাইয়া দিছে। আরও দুই বছর পর—আমি তাওয়ার ওপরে (উকি) দাঁড়াইয়া রান্না করতাম। দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ, হপ্তায় ছয় দিন। থাকতাম এক ছোট কামরায়—বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের আরও তিন ছেলের সাথে। অভিযোগ করিনি কখনো। আমরা আরামের জন্য আসি নাই এদেশে। আমার দিন কেমনে যাইতো। বেতন ফিক্সড ছিল—সব কাটাকাটির পর মাসে ১৬০০-১৭০০ পাউন্ড মতো। কখনো টিপস পাইতাম, হপ্তায় ২০-৩০ পাউন্ড, ভাগ্যে থাকলে। কামরা ভাড়া—৪৫০ পাউন্ড। খাবার—বাঁচাইয়া খাইতাম, নিজেই রান্না করতাম। চাল, ডাল, সবজি বাজার থেকে। মাসে ১৫০-১৮০। যাতায়াত—বাসে অফিস যাওয়া-আসা, ৮০ মতো। মোবাইল বিল—২০। বাড়িতে টাকা পাঠাইতাম—২০০-৩০০ পাউন্ড। মা আর বোনের জন্য। এটা ফরজ। হাতে থাকতো ৫০০-৬০০ মতো। কিন্তু আসলে... মাসে না হয় কিছু হতো। এক রুমমেটের ভিসার বাকি টাকা—সবাই মিলাইয়া দিতাম। আরেকজন অসুস্থ হইলে বিনা বেতনে তার শিফট কাভার করতাম। নিজের—কখনো দাঁত ব্যথা করতো, কখনো জুতা ফুটো হইয়া যাইতো, নতুন কিনতে গেলে ৫০ উড়াইয়া যাইতো। মাসের শেষে চাল-ডাল খাইয়া বসে থাকতাম—শুধু পরের বেতনের অপেক্ষায়। আর এমনি তিন বছর। আমি সব "নিয়ম মেনে" করছি। মদ খাই নাই। সিগারেট খাই নাই। ঘুরাঘুরি করি নাই। কাজ, ঘুম, টাকা পাঠানো। ভাবতাম—একদিন না একদিন সহজ হইবেই। তারপর রেস্তোরাঁ বন্ধ। মালিক কইল, ভাড়া বাইরাইয়া গেছে, কাস্টমার কমিয়া গেছে, ব্যবসা বন্ধ। আমরা—সাতজন কুক আর তিনজন ডিশওয়াশার—একদিনেই রাস্তায়। না গোল