এখানে试试 করো ----->
লাল রঙের অংশ: পাঁচ বছর নটিংহামে ডেলিভারি করছি… কিন্তু এখনো ঋণে আছি 😤 আমার নাম রাজ আহমেদ। আমার বয়স ৩৪ বছর। আমি নটিংহামে থাকি। প্রায় ৬ বছর আগে আমি বাংলাদেশ (সিলেট) থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছি। অনেকের মতো, আমি শুধু ভালো জীবনের জন্য আসিনি—আমি নতুন করে শুরু করতে চেয়েছি। আমি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ভালো উপার্জনের সুযোগ খুঁজছিলাম, যাতে দেশে থাকা পরিবারকে সাহায্য করতে পারি। প্রথম বছরগুলো খুব কঠিন ছিল। আমার ইংরেজি দুর্বল ছিল, সিস্টেম বুঝতে পারতাম না। যেকোনো কাজ করেছি—গুদাম, রান্নাঘর, রাতের শিফট। কখনো কখনো পরিচিত বাংলাদেশিরা সাহায্য করতেন। অভিজ্ঞতা আর ভাষা ছাড়া ভালো চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। আস্তে আস্তে ইংরেজি শিখেছি, কাগজপত্র করেছি, নিজেকে স্ব-নিযুক্ত হিসেবে নিবন্ধন করেছি এবং বুঝতে শুরু করেছি এখানে সবকিছু কীভাবে চলে। প্রায় ৫ বছর আগে আমি ডেলিভারির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই। বন্ধুদের কাছ থেকে অ্যামাজন ফ্লেক্সের কাজের কথা শুনেছিলাম। অনেক বাংলাদেশি সেখানে কাজ করত, আর এটা ভালো উপার্জনের সুযোগ বলে মনে হয়েছিল। গাড়ির জন্য ঋণ নেওয়া সহজ ছিল না। প্রথমে আমাকে তারা reject করত—আমার কোনো credit history ছিল না, স্থায়ী আয় ছিল না। কিন্তু পরে, যখন আমি নিয়মিত আয় দেখাতে শুরু করলাম, ট্যাক্স দিতে লাগলাম এবং নিয়মিত কাজ করতে লাগলাম, তখন একটা ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে ঋণ পেলাম। শর্তগুলো কঠোর ছিল, সুদের হার অনেক বেশি ছিল—কিন্তু আর কোনো উপায় ছিল না। আমি একটা পুরনো ফোর্ড ফোকাস কিনলাম এবং অ্যামাজন ফ্লেক্সে কাজ শুরু করলাম। আমি ভেবেছিলাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। নিজেকে বলতাম: দুই বছর কঠোর পরিশ্রম করব, ঋণ শোধ করব—তারপর নতুন জীবন শুরু করব। কিন্তু উল্টো হলো। বর্তমানে আমার দিনটা এভাবে চলে। সকাল ৫টায় উঠি, ৬টার মধ্যে ডিপোতে পৌঁছে যাই। গাড়ি লোড করি এবং ডেলিভারি শুরু করি। প্রতিদিন ২০০টির বেশি ডেলিভারি। বিরতি ছাড়া। স্ক্যানার থামে না, সব সময় সময়ের সাথে দৌড়, GPS প্রায়ই ভুল বলে। বৃষ্টি, জ্যাম, রাগান্বিত গ্রাহক। যদি দেরি হয়—রেটিং কমে যায়। দিনের শেষে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাই। পিঠ ব্যথা করে, পা অবশ হয়ে যায়, হাত কাঁপে। কাগজে-কলমে সব ভালো দেখায়—দিনে £১২০–£১৪০। কিন্তু আসলে… পেট্রল, বীমা, মেরামত, ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ, খাবার—এবং পরিবারের জন্য দেশে টাকা পাঠাতে হয়। শেষে কিছুই থাকে না। মুশকিলে দিন চলে। ফোর্