এখানে ইনস্টল করুন 👉
🛑 আমি দিনে ১২ ঘন্টা ব্যাটারি-রিকশা চালাই, কিন্তু সন্ধ্যায় শুধু ক্লান্ত লাগে। আমার বয়স ২৭ বছর, আমি বাংলাদেশের বাসিন্দা। প্রতিদিন সকালে আমি খুব ভোরে বের হই। শহরের গরম, ধুলো, রাস্তা, সিগন্যাল, আর অবিরাম কোলাহল। সারাদিন আমি লোকজনকে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাই। কেউ কাজে যায়। কেউ বাজারে যায়। কেউ বাড়ি ফেরে। আর আমি শুধু এই চক্রে আমার দিনটা কাটাই। সন্ধ্যা নাগাদ আমার হাত, পিঠ আর চোখে ব্যথা করে। আমি বিশ্রাম নেওয়ার আগেই আমার ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কখনও কখনও ডিউটি শেষে আমি শুধু চুপচাপ বসে থাকতে চাই, কারও সাথে কথা বলতে চাই না। একদিন সন্ধ্যায় আমি একটা চায়ের দোকানে থেমে চা নিলাম আর আমার ফোনের ফিড স্ক্রল করতে শুরু করলাম। আমার চোখে পড়ল ‘ক্রেজি টাইম’-এর একটা ভিডিও, যেখানে একজন লোক ১০ লক্ষ টাকা জিতেছে। প্রথমে আমি শুধু উজ্জ্বল রঙের জন্য ভিডিওটা দেখেছিলাম। চাকাটা ঘুরছিল, লোকজন চিৎকার করছিল, স্ক্রিনে সবকিছু ঝলমল করছিল। আমি আরও স্ক্রল করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো এক কারণে আমি সেখানেই থেকে গেলাম। তারপর আমি নিজেই চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কোনো বিশেষ প্রত্যাশা ছাড়াই। সারাদিনের শেষে শুধু কৌতূহলবশত। প্রথম রাউন্ডগুলো সাধারণই ছিল, ১০০০ টাকা পর্যন্ত জিতেছিলাম। অবাক করার মতো কিছুই ছিল না। আমি ইতিমধ্যেই গেমটা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ক্রেজি টাইম-এর বোনাস রাউন্ড শুরু হলো। স্ক্রিনের সবকিছু যেন জীবন্ত হয়ে উঠল। আলো, শব্দ, চাকা, উত্তেজনা। আমি আমার ফোনের দিকে এমনভাবে তাকালাম যেন আশেপাশে কেউ নেই। টাকার পরিমাণ বাড়তে শুরু করল। আমি স্ক্রিনের আরও কাছে ঝুঁকে দেখলাম যে আমি ১,০০,০০০ টাকা জিতেছি। তারপর আমি স্বপ্ন দেখছি না তো, তা নিশ্চিত হতে আবার দেখলাম। আমার বুকটা এমনভাবে ধড়ফড় করছিল যেন আমি এইমাত্র নিজের রিকশার পেছনে দৌড়েছি। রাউন্ডটা শেষ হলে, আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিশ্চল হয়ে বসে রইলাম। আমি কিছুই বলতে পারিনি। আমি শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চুপ করে ছিলাম। আমার সেই মুহূর্তটা খুব ভালো করে মনে আছে। সংখ্যাগুলোর জন্য নয়। বরং সেই অনুভূতিটার জন্যই। কারণ একটা দীর্ঘ, কঠিন, একঘেয়ে দিনের পর, আমি হঠাৎ করে সত্যিকারের এক অ্যাড্রেনালিন রাশ অনুভব করেছিলাম। রাস্তার কোলাহলের জন্য নয়। ক্লান্তির জন্যও নয়। বরং এমন কিছু যা আমার মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। এ