👉👉👉
৮ বছর ইউরোপে গাড়ি চালিয়ে — আর শুধু ঋণ 🔴 আমার নাম সাজিদ। বয়স ৪১ বছর। আমি বাংলাদেশ থেকে 🇧🇩 ইটালিতে আমি প্রায় নয় বছর আগে এসেছি। যখন মিলানে পৌঁছালাম, তখন মনে হয়েছিলো জীবন শেষমেশ বদলাবে। আমি ভেবেছিলাম: "দুই বছর কঠোর পরিশ্রম — আর সব ঠিক হয়ে যাবে"। টাকা জমানোর ইচ্ছা ছিল। বাংলাদেশে বাবা-মাকে সাহায্য করব। বাচ্চাদের একটা স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ দেব। পরিবারের জন্য ঘর কিনব। কিন্তু বছর চলে গেল… আর এখন অনুভূতিটা এমন, যেন আমি শুধু অন্তহীনভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। আট বছর হলো আমি ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছি। বেশিরভাগ সময় আমি ঘুরি এই রুটে: ইটালি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, মাঝে মাঝে স্পেন। আর সত্যি বলতে — এই কাজ আমাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার প্রতিটি দিন অনেক বছর ধরে একই রকম দেখায়। সকাল ৪:৩০ — ওঠা। ৫:৩০ — রওনা। ১০ থেকে ১৪ ঘন্টা স্টিয়ারিং ধরে। অটোস্ট্রাডা। বৃষ্টি। জ্যাম। ট্রাকের পার্কিং। পেট্রোল পাম্প। চলতি অবস্থায় কফি। আর একটাই ক্লান্তি যা লেগেই থাকে। মাঝে মাঝে আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ট্রাকের মধ্যেই বেশি থাকি, বাড়ির চেয়েও। গোসল — সুযোগ মতো। খাবার — মাইক্রোওয়েভ বা পাম্প থেকে। পিঠের ব্যাথা প্রায় সবসময়ই লেগে থাকে। পা ফুলে যায়। স্বাভাবিক ঘুম প্রায় নেই। বউ আর বাচ্চাদের আমি মাসে বেশিরভাগ কয়েকদিনই দেখি। আর সবচেয়ে কষ্টের কথা — বাচ্চারা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে বাবা বাড়িতে প্রায় থাকেই না। ভালো মাসে আমার আউট হতো প্রায় €৪,৫০০–৫,৫০০। শুনতে স্বাভাবিক লাগে? না। কারণ: ডিজেল, ট্রাকের ঋণ, ইনসুরেন্স, মেরামত, খাবার, পার্কিং, ভাড়া, বিল… ইউরোপে টাকা সহজেই উধাও হয়ে যায়। আর যা বাঁচতো, প্রায় সবটাই আমি বাংলাদেশে পরিবারের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিতাম। মা অসুস্থ। ছোট ভাই পড়াশোনা করে। আমি তাদের সাহায্য ছাড়া রাখতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত — আট বছরেও আমার কাছে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুধু ঋণ আর চিরস্থায়ী ক্লান্তি। ট্রাকটা তখনও ঋণে ছিল। আর যত দিন যাচ্ছিল, বাঁচতে ততই কঠিন হচ্ছিল। গত বছর আমি অবশেষে অল্প কয়েকদিনের ছুটি নিলাম। অনেকদিন পর পরিবারের সাথে শুধু বাড়িতে ছিলাম। বাচ্চাদের সাথে ডিনার করলাম। বউয়ের সাথে সিনেমা দেখলাম। সকাল ৪টার অ্যালার্মে না উঠে ঘুম থেকে জাগলাম। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সেই কষ্টের অনুভূতি ফিরে এল ভেতরে। একই বিল। একই ঋণ। ব্যাংকিং অ্যাপ খোলার সেই একই ভয়। ছ