👉👉👉👉
আমার নাম আয়েশা রহমান। আমার বয়স ৩১ বছর। আমি বাংলাদেশের—সিলেটের আশপাশের এলাকা থেকে। কিন্তু এখন আমি ম্যানচেস্টারে থাকি, চোরলটন এলাকায়। আমি একটা রুম ভাড়া করি। পুরো ফ্ল্যাট না—শুধু একটা রুম। তিনজন অপরিচিত লোকের সাথে থাকি। তারা সবাই ইংরেজ, একজনও বাংলাদেশি না। আমি এখানে একা। আমি টেসকো এক্সপ্রেসে ক্যাশিয়ারের কাজ করি। এটা একটা ছোট কোণার দোকান। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আমার শিফট বিকেলের: দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা। কখনও কখনও ১১টা পর্যন্ত, যদি কেউ না আসে। ঘণ্টায় £১১.৪৪ পাই। ট্যাক্স কাটার পরে মাসে প্রায় £১৫০০ হয়। সাধারণ মনে হচ্ছে? কিন্তু আসলে তা না। হিসাব শুনুন। রুম ভাড়া—£৫৫০। ইউটিলিটি বিল অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ইন্টারনেট না। মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স—£৯০। আমি ফ্ল্যাটের বাকিদের সাথে ভাগ করি, কিন্তু এই লোকেরা কখনও সময়মতো টাকা দেয় না। প্রতি মাসে তাদের পেছনে ছুটতে হয়। ইন্টারনেট আর মোবাইল বিল—£৫৫। বাসে যাওয়া-আসা—£৬৫। রাতে ভাড়া বেশি। খাবার—£২৫০। মাংস প্রায় খাই না—এখন খুব ব্যয়বহুল মনে হয়। বাংলাদেশী মান অনুযায়ী তো আকাশছোঁয়া দাম। নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশন—£১৫। এটাই আমার একমাত্র বিনোদন, তাও এক বান্ধবীর সাথে শেয়ার করি। কাপড় আর জুতা—£২০। সব সেকেন্ড হ্যান্ড। ওষুধ—£১০। মাথাব্যথা আর অ্যালার্জির ট্যাবলেট। অপ্রত্যাশিত খরচ—£৩০। সঞ্চয়—£৪১৫। এই £৪১৫ প্রথম দেখায় বড় অঙ্ক মনে হয়। কিন্তু আসলে তা না। কারণ এই টাকা ভুলে যাওয়া টাকা—যা আগামীকালের জন্য জমাই। আর আগামীকাল তো সবসময়ই আসে। তিন বছর হয়ে গেল আমি একা থাকি। ড্যানের সাথে ব্রেকআপ করার পর থেকে। সে মন্দ ছিল না। মারত না, চিৎকার করত না। শুধু আমি ছিলাম তার কাছে ফ্রিজের মতো—যেন আছে, কিন্তু কেউ খেয়াল করে না। আমি নিজেই ওকে ছেড়ে চলে এসেছি। সেই থেকে আমি পুরোপুরি একা। বাংলাদেশে আমার আত্মীয়রা মনে করে আমার এখানে দারুণ জীবন। আমি তাদের সত্যি বলি না। মাকে কী করে বলি যে নয় বর্গমিটারের একটা রুমে তিন অচেনা ছেলের সাথে ঘুমাই? আমি রাত সাড়ে দশটার দিকে বাড়ি ফিরি। বাড়িটা পুরনো, দরজাগুলো চিৎকার করে। আমার ফ্ল্যাটমেটরা তিন ছেলে। তাদের কিছু যায় আসে না। রাত দুটোয় পূর্ণ ভলিউমে গান বাজায়। আমি অভিযোগ করি না—ভয় হয় তারা আমাকে আরও বেশি ঘৃণা করবে। আর আমার যাওয়ারও জায়গা নেই। আমি আমার রুমে যাই। নয় বর্গমিটার। বিছানা, আলমারি, টেবিল। টেবিলে—২০১৭ সালের এক